সর্বজনীন পেনশনে এখনো সাড়া কম, গ্রাহক বাড়ছে মাসে ১,০০০ করে

সর্বজনীন পেনশনে এখনো সাড়া কম, গ্রাহক বাড়ছে মাসে ১,০০০ করে

সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর পর পাঁচ মাসে চারটি আলাদা কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৯৯৫ জন গ্রাহক হয়েছেন। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে তাঁদের মোট চাঁদা জমা হয়েছে ২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী প্রথম এক মাসে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গ্রাহক চাঁদা পরিশোধ করেছিলেন। মোট পাঁচ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দ্বিতীয় মাসে গ্রাহক বাড়ে ১ হাজার ৮৩১ জন ও তৃতীয় মাসে বাড়ে ১ হাজার ১৩৪ জন। চতুর্থ ও পঞ্চম মাসে এক হাজারের কিছু বেশি গ্রাহক বেড়েছে।

 

চালু হওয়ার পর প্রথম মাসে (৩০ দিনে) যে পরিমাণ গ্রাহক সাড়া দিয়েছিলেন, পরের চার মাসে তার অর্ধেকও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিন থেকেই তা সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রথম দিন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে ৮ হাজার মানুষ অনলাইনে নিবন্ধন করলেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে চাঁদা দিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০০ জন।

চার শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য চার ধরনের পেনশন স্কিম রয়েছে। এগুলোর নাম হচ্ছে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাস’ এবং দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সমতা’।

পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চার স্কিমের মধ্যে প্রগতিতে ৭ হাজার ৫০৬ জনের ১৩ কোটি ৩১ লাখ, সুরক্ষায় ৭ হাজার ৪৭১ জনের ৮ কোটি ৬৭ লাখ, প্রবাসে ৫০৭ জনের ২ কোটি ৯ লাখ ৪৫ হাজার এবং সমতায় ২ হাজার ৫০১ জনের মাধ্যমে ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা চাঁদা জমা পড়েছে।

সবার জন্য চালু করা পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে ইউপেনশন ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, একটি সচল মুঠোফোন নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর, নমিনির এনআইডি ইত্যাদি তথ্য লাগে।

চাঁদা দিয়ে পেনশন-ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ। দেশের অন্তত ১০ কোটি মানুষ পেনশনব্যবস্থার আওতায় আসবেন, এমন প্রত্যাশা সরকারের রয়েছে। বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তাকাঠামোর আওতায় আনা এবং নিম্ন আয় ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত সমাজের ৮৫ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই পেনশন স্কিম চালু করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই বলে আসছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শুরুর দিকে শুধু সোনালী ব্যাংক ছিল পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের সহায়তাকারী। পরে অগ্রণী ব্যাংককেও এ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে পেনশন কর্তৃপক্ষের আলোচনা হচ্ছে। এদিকে সংরক্ষিত এলাকা সচিবালয় থেকে বেরিয়ে পেনশন কর্তৃপক্ষ নতুন অফিস নিয়েছে রাজধানীর কাকরাইলে।

পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাঁচ মাসের চিত্র যা-ই থাকুক না কেন, পেনশন স্কিম নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। এর এতগুলো ইতিবাচক দিক রয়েছে যে মানুষ এতে সাড়া দেবেই।’

পেনশন স্কিমে জমা অর্থের তুলনায় সুবিধা (রিটার্ন) খুব লোভনীয় নয় বলে কেউ কেউ কথা বলেন। কারও কারও মতামত, সঞ্চয়পত্রের তুলনায় পেনশন স্কিমে সুবিধা কম। স্কিমের প্রচারণাও কম বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সম্ভাব্য রিটার্ন ৮ শতাংশ ধরেছি। এর কম হবে না। তবে বাড়তে পারে। বাড়ার কারণ হচ্ছে ট্রেজারি বন্ডে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে ১১ শতাংশ হারে। বাড়তি আয় গ্রাহকেরাই পাবেন।

আর সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে পেনশন স্কিমের তুলনা না করার পরামর্শ দিয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, তাঁরা এখন প্রচারে মনোযোগ দিচ্ছেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *